আওয়ামী পন্থিহীন সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: ভোট দিচ্ছেন ১১ হাজার আইনজীবী

ঢাকা, ১৩ মে – আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পৌনে দুই বছর পর এক অনন্য ও ঐতিহাসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শুরু হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) নির্বাচন। আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই ভোটযুদ্ধ। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—বিগত বছরগুলোর প্রধান শক্তি আওয়ামী পন্থি আইনজীবীদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল দিতে পারেনি আওয়ামী পন্থি আইনজীবীরা। তাদের ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্বাচনী মাঠ এখন মূলত বিএনপিপন্থি ‘নীল প্যানেল’ এবং জামায়াতপন্থি ‘সবুজ প্যানেলে’র দখলে। পাশাপাশি এনসিপি সমর্থিত আংশিক প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও লড়ছেন।
এক নজরে নির্বাচনের পরিসংখ্যান
- মোট ভোটার: ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী।
- মোট পদ: ১৪টি (সভাপতি ও সম্পাদকসহ)।
- মোট প্রার্থী: ৪১ জন।
- ভোটের সময়: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা (দুপুর ১টা-২টা বিরতি)।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন ও সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার লড়ছেন।
নির্বাচনে অংশ নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ আওয়ামী পন্থি আইনজীবীরা। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই নির্বাচনকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি সাধারণ আইনজীবীদেরও ভোটদান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিএনপিপন্থি সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর সাফ কথা, “সরকার তাদের নিষিদ্ধ করেছে এবং বারের সাধারণ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরকে ভোটে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।” তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে জামায়াতপন্থি প্রার্থী রেজাউল করিমের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “কাউকে সাধারণভাবে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার অধিকার কারও নেই, আমরা এটিকে সমর্থন করি না।”
আওয়ামী লীগ ফ্যাক্টর না থাকায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ। তারা পূর্ণ প্যানেলে জয়ের আশা করছেন। তবে জামায়াত ও এনসিপি প্যানেলও এবার কোমর বেঁধে নেমেছে। বিশেষ করে পেশাজীবী ভোটারদের মধ্যে জামায়াত প্যানেলের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, তা এই নির্বাচনে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী নির্বাচন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬









