উত্তর আমেরিকা

বাজেট ছাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলার! ইরান যুদ্ধ নিয়ে খোদ রিপাবলিকানদের তোপের মুখে পেন্টাগন প্রধান

ওয়াশিংটন, ১২ মে – ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এখন মার্কিন রাজনীতির উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা, অন্যদিকে আকাশচুম্বী খরচ—সব মিলিয়ে এবার নিজ দলের আইনপ্রণেতাদেরই তোপের মুখে পড়তে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত সামরিক বাজেটে যে ঐতিহাসিক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৭ সালের জন্য সামরিক খাতে ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লক্ষ কোটি) ডলারের বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছে। তবে এই বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে আলোচনার চেয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি।

ইরান যুদ্ধ বর্তমানে এক ধরণের স্থবির অবস্থায় আটকে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরণের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পেন্টাগনের নিরীক্ষক জুলস হার্স্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৯ বিলিয়ন (২ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার। গত মাসের তুলনায় এই খরচ এক ধাক্কায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে মূলত সামরিক সরঞ্জামের মেরামত ও প্রতিস্থাপনে, সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনার দৈনন্দিন খরচে এবং অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পেছনে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন শীঘ্রই শুনানিতে অংশ নেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা আরও বেশি ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন। কারণ, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সমরাস্ত্রের মজুদ বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।

সাধারণত সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির সমর্থক হলেও, এবারের যুদ্ধ নিয়ে খোদ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও প্রশ্ন তুলছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তারা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনের জনপ্রিয়তায় আঘাত হানতে পারে।

“এই ব্যয়ের পেছনে কেবল সামরিক সরঞ্জাম নয়, বরং একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ঝুঁকিও জড়িয়ে আছে।” — জুলস হার্স্ট, পেন্টাগন নিরীক্ষক।

ইরান যুদ্ধ কি তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের এই ঐতিহাসিক বাজেট কি পাস হবে? উত্তর মিলবে আসন্ন সংসদীয় শুনানিতে। এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং হোয়াইট হাউসের আগামী দিনের রাজনীতিও নির্ধারণ করে দেবে।

এনএন/ ১২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language