হরমুজ প্রণালীতে কামিকাজে ডলফিন আতঙ্ক এবং ইরানের সক্ষমতা নিয়ে জল্পনা

তেহরান, ৬ মে – পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানি মাইন হামলার আশঙ্কার মধ্যে আলোচনায় এসেছে এক ভিন্নধর্মী যুদ্ধকৌশল। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার উদ্দেশ্যে ইরান মাইন বহনকারী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডলফিন ব্যবহার করতে পারে। এই ডলফিনগুলোকে কামিকাজে বা আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত করা হতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে ইরানের কাছে এ ধরনের কোনো ডলফিন বাহিনী থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে নিজস্ব ডলফিন বাহিনী আছে কি না সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বিষয়টি রহস্যময় রেখেছেন। সমুদ্রের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সামরিক কাজে ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো।
মার্কিন নৌবাহিনী ১৯৫৯ সাল থেকে ডলফিন এবং সমুদ্র সিংহদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে যারা পানির নিচে মাইন শনাক্ত করতে দক্ষ। তবে পেন্টাগন দাবি করে যে তাদের এই প্রাণীরা কেবল মাইন খুঁজে বের করার কাজ করে এবং তাদের আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহার করা হয় না। সিএনএন এর একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ডলফিন ব্যবহার করছে না।
অন্যদিকে ইরানের ডলফিন সক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ২০০০ সালের দিকে ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু ডলফিন কিনেছিল বলে একটি পুরনো রিপোর্টে উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে সেই ডলফিনগুলো বর্তমানে জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম এবং তেহরান নতুন কোনো কর্মসূচি শুরু করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও ডলফিনের প্রাকৃতিক সোনার সিস্টেমের সমকক্ষ প্রযুক্তি আজও তৈরি সম্ভব হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এস এম/ ৬ মে ২০২৬









