জাতীয়

হাম শনাক্তে চরম সংকট, ফুরিয়ে আসছে পরীক্ষার কিট

ঢাকা, ৬ মে – সারা দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই রোগ শনাক্তের একমাত্র ভরসাস্থল মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইপিএইচ) দেখা দিয়েছে কিট সংকট। বর্তমানে হাতে থাকা সামান্য কিছু কিট দিয়ে বড়জোর আর পাঁচ থেকে ছয় দিন পরীক্ষা চালানো সম্ভব। নতুন চালান দ্রুত না পৌঁছালে দেশজুড়ে হাম শনাক্তের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবে বর্তমানে মাত্র ১৩টি কিট অবশিষ্ট আছে। একটি কিটে সর্বোচ্চ ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। সে হিসাবে এই মজুত দিয়ে মাত্র ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ৫০০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। ল্যাবটির প্রতিদিনের সক্ষমতা ৬০০ নমুনা হলেও বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩০০টি নতুন নমুনা আসছে। এই হারে পরীক্ষা চললে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ল্যাবটি অচল হয়ে পড়বে।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১২৭টি কিট সংগ্রহ করেছিল ইনস্টিটিউট। এর মধ্যে ১১০টিরও বেশি কিট ১০ হাজার ৫৯৭টি নমুনা পরীক্ষায় শেষ হয়ে গেছে।

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ১২৭টি কিট, ব্যবহৃত কিট ১১৪টি। অবশিষ্ট রয়েছে ১৩টি কিট

পরীক্ষার ফল পেতে দেরি হওয়া নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি নমুনার ফল পেতে বর্তমানে ৪ থেকে ৭ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে যেখানে দ্রুত শনাক্তকরণ প্রয়োজন, সেখানে দীর্ঘসূত্রতা শিশুদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

কিট সংকটের কথা স্বীকার করেছেন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোমিনুর রহমান। তবে তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে দ্রুতই ৩০টি কিট আসার কথা রয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ১০০টি কিট পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত মজুত না করার কারণ হিসেবে তিনি কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “হামের কিটের মেয়াদ মাত্র ৬ মাসের মতো থাকে। বিদেশে তৈরির পর দেশে আসতে আসতেই এক মাস চলে যায়। তাই খুব বেশি কিট এনে জমিয়ে রাখা সম্ভব হয় না।”

এনএন/ ৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language