রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার তান্ডব: গুলিতে প্রতিপক্ষ গ্রুপ প্রধান ‘হালিম’ নিহত

কক্সবাজার, ৫ মে – কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। উগ্রপন্থী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ছোড়া গুলিতে প্রতিপক্ষ রোহিঙ্গা গ্রুপ ‘হালিম বাহিনী’র প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম (৩৮) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুই রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যার পর উখিয়ার নৌকার মাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত হালিম এবং তার দুই সহযোগী মোহাম্মদ উল্লাহ ও নুর মোহাম্মদ মোটরসাইকেলে করে বালুখালী ক্যাম্প-৮/ইস্ট থেকে নিজ নিজ শেডের দিকে ফিরছিলেন। পথে ৭ নম্বর ক্যাম্প ও ৮/ইস্ট ক্যাম্পের মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরসা সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলা নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুলির শব্দ শুনে নৌকার মাঠ পুলিশ ক্যাম্পের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হালিম বাহিনীর প্রধান কেফায়েত উল্লাহ হালিম মারা যান। বাকি দুজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সিরাজ আমীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এই হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, আধিপত্য বিস্তার এবং পুরনো শত্রুতার জের ধরে আরসা ও হালিম বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সন্ধ্যার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সেই বিরোধেরই চরম বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমানে উখিয়ার সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলোতে এপিবিএন ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনএন/ ৫ মে ২০২৬









