কক্সবাজার রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ: তদন্তে নেমেছে দুদক

কক্সবাজার, ১৮ এপ্রিল – কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগে সক্রিয় সিন্ডিকেটের সন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি। দুদকের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদের সই করা একটি চিঠির মাধ্যমে কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানীর কাছে টিকিট বিক্রির যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন ও অফলাইন টিকিট বিক্রির পূর্ণাঙ্গ ডেটা, কোটা বরাদ্দ, রিফান্ড রেকর্ড এবং ডিউটি রোস্টারসহ প্রশাসনিক নথিপত্র। অভিযোগ উঠেছে যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের টিকিট ব্লক করে সাধারণ যাত্রীদের বঞ্চিত করছে এবং পরে তা চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল অংকের অর্থ অবৈধভাবে লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টার বা অনলাইনে টিকিট পাওয়া না গেলেও বাড়তি টাকা দিলে সহজেই তা মিলছে।
স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অসাধু সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে তদন্ত চলাকালীন সত্য প্রকাশিত হবে। তবে তিনি দুদকের চাওয়া অনেক তথ্য নিজের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন এবং সেগুলো প্রধান কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেছেন।
২০২৩ সালে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন চালু হওয়ার পর থেকেই টিকিট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। উচ্চ আদালতও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে পর্যটকদের চাপ বাড়ায় এই সিন্ডিকেট আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম শিগগিরই সরেজমিনে তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
এস এম/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬









