মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ

তেহরান, ৫ মে – পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো উদ্ধারে সোমবার থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পরপরই ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী পাল্টা হামলা শুরু করলে পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।

সোমবার দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে তাদের অনুমতি ব্যতীত কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলসীমা দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের পাহারায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে প্রণালি পার হয়েছে।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বীমা খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সং

কট নিরসনে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। ইরান ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন এই সামরিক অভিযানকে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ বা অচলাবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ঘটনাকে উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করে দেশের স্কুলগুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় বড় জাহাজ কোম্পানিগুলো এই রুট দিয়ে চলাচল আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই উত্তেজনা নিরসনে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো।

তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তাবে হরমুজে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করার পাশাপাশি তাদের সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

এস এম/ ৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language