পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল মানতে নারাজ মমতা, ষড়যন্ত্র ও হেনস্থার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কলকাতা, ৫ মে – পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির জয়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হলেও এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত লুণ্ঠনের অভিযোগ আনেন।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে হারেনি বরং অন্তত ১০০টি আসনে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করে তাদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে তাঁর সঙ্গে হওয়া অভূতপূর্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং হেনস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রমাণের ছিটেফোঁটা যাতে না থাকে সেজন্য কৌশলে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এমনকি তাঁর নির্বাচনী এজেন্টদেরও গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। নিজের পরাজয়ের চেয়েও তিনি বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা এবং মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে।
নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি একে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্র আজ সংকটের মুখে এবং কেন্দ্রীয় সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেও লড়াই জারি রাখার অঙ্গীকার করেছেন তৃণমূল প্রধান।
কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন যে দল সবসময় তাদের পাশে থাকবে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে পরাজয় মেনে না নেওয়ার দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।
এস এম/ ৫ মে ২০২৬









