পশ্চিমবঙ্গ

বাংলায় ‘মমতা’ জমানার অবসান: ভবানীপুরে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা, ৪ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে। নিজের ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আসনেই বিজেপি প্রার্থী ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরাজয়ের সাথে সাথেই রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারের পর এবার ভবানীপুরেও একই পরিণতির শিকার হলেন মমতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯তম রাউন্ড শেষে ব্যবধান কম থাকলেও শেষ রাউন্ডে শুভেন্দুর লিড এক লাফে অনেকটা বেড়ে যায়, যা মমতার পরাজয় নিশ্চিত করে।

২৯৪টি আসনের মধ্যে আজ ২৯৩টি আসনের ফলাফল ও প্রবণতা সামনে এসেছে (একটি আসনে ভোট পুনর্গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে)। বর্তমান চিত্র অনুযায়ী বিজেপি ২০৫টি আসনে জয় বা এগিয়ে (একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা)। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৪টি আসন।

এই ফলাফল নির্দেশ করছে যে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হিন্দুত্ববাদী বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি অন্তত একশটিরও বেশি আসন লুট করেছে। এছাড়া তাকে শারীরিক হেনস্থা ও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এই ফলাফলকে তিনি ‘কারচুপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আজ গণনাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন মমতা। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনা পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর তিনি দ্রুত কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে চলে যান। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আর জি কর কাণ্ড, নিয়োগ দুর্নীতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর সুপরিকল্পিত লড়াই মমতার এই দুর্গ পতনের মূল কারণ। ২০১১ সালে যে বাম শাসনের অবসান তিনি ঘটিয়েছিলেন, ২০২৬-এ এসে নিজের গড়া দুর্গেই তাঁর পতন ঘটল।

এনএন/ ৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language