পশ্চিমবঙ্গ

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর ‘হ্যাট্রিক’ জয়: ১০ হাজার ভোটে হারল তৃণমূল

কলকাতা, ৪ মে – পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত আসন নন্দীগ্রামে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করে নিজের রাজনৈতিক দুর্গ অক্ষুণ্ণ রাখলেন বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার ২০০ ভোটের ব্যবধানে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন তিনি।

নন্দীগ্রামে অনায়াস জয় পেলেও সবার নজর এখন কলকাতার ভবানীপুর আসনের দিকে। এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসনে লড়ছেন—একটি নন্দীগ্রাম এবং অন্যটি মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুর। এই ভবানীপুরেই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সেখানে মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে তীব্র ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াই চলছে। প্রতি রাউন্ডে ব্যবধান কখনো কমছে, আবার কখনো বাড়ছে।

ভোটের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। বিকেলে ভবানীপুর আসনের সাখাওয়াত নামক একটি গণনা কেন্দ্রে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী গণনা কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের সঙ্গে ফোন থাকায় নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে সেই ফোনগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেয়।

সাখাওয়াত কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে তিনি ওই নির্দিষ্ট আসনের প্রার্থী বা এজেন্ট না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাকে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। যা নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর এই জয় বিজেপির জন্য বিশাল এক মনস্তাত্ত্বিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভবানীপুরের ফল যদি শুভেন্দুর পক্ষে যায়, তবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হতে পারে। আপাতত গোটা ভারত তাকিয়ে আছে ভবানীপুরের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

এনএন/ ৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language