বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নতি চান না হিমন্ত বিশ্বশর্মা

দিসপুর, ২৯ এপ্রিল – ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েন বজায় রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে তিনি প্রতিদিন প্রার্থনা করেন যেন দুই দেশের সম্পর্কের আর উন্নতি না হয়। হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছে তা আসামের স্বার্থে প্রয়োজন। তিনি বলেন যে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্কের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তিনি চান সেটিই যেন বজায় থাকে।
দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত থেকে রাতের অন্ধকারে কীভাবে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করা হয় তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ পুশ-ব্যাক করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ১০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত নিজেদের হেফাজতে রাখে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে যখন ওপাশে বিজিবি থাকে না তখন তাদের জোর করে ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মূলত রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত ১৫ এপ্রিল এই সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হলেও এর কিছু অংশ বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার পুশ-ব্যাক করতে চায় না। তাই আসামের মানুষের জন্য দুই দেশের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক থাকাই সুবিধাজনক। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী স্থাপিত হলে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো করমর্দন শুরু করলে তা আসামের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। সম্পর্কের উন্নতি হলে সীমান্ত পাহারা শিথিল হয়ে যায়। তাই তিনি চান সীমান্তে বিএসএফের কড়া প্রহরা এবং বন্দুক উঁচিয়ে রাখা পরিস্থিতি বজায় থাকুক যাতে অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এটিকে নিজের মনের কথা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এস এম/ ২৯ এপ্রিল ২০২৬









