নারীদের মধ্যে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা: স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল – ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর হলেও সম্প্রতি বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এই আসক্তি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা কারণ ধূমপানের ফলে নারীদের শারীরিক ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ধূমপায়ী নারীদের ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ধূমপায়ী পুরুষদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এমনকি অধূমপায়ী নারীদের তুলনায় যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
বর্তমানে আধুনিকতা বা সামাজিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে অনেকে ধূমপানকে একটি ট্রেন্ড হিসেবে গ্রহণ করছেন। আবার অনেকে মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে এই ক্ষতিকর আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া বন্ধুবান্ধব এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এই আসক্তির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। ফুসফুসের জটিলতা ছাড়াও ধূমপানের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। এর ফলে চামড়া দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায় এবং মুখে অকাল বলিরেখা ও বয়সের ছাপ ফুটে ওঠে।
এছাড়া দাঁত ও মাড়ির সমস্যার পাশাপাশি মুখের স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ধূমপান মারাত্মক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপানের সাথে উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। পাশাপাশি এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় যার ফলে সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় প্রজনন ক্ষমতার ওপর। ধূমপান নারীদের সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাত ও অকাল প্রসবের মতো জটিল সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ জীবন ও নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রয়োজনে এই মরণব্যাধি অভ্যাস ত্যাগ করা অপরিহার্য।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









