সীমানার চেয়েও গভীর বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক: প্রণয় ভার্মা

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল – বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে অভিন্ন ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জাতীয় সীমানার চেয়েও অনেক বেশি প্রাচীন ও গভীর।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সংগীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ‘বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে: অন্তর্লীন ঐক্যের সুর’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। এই আয়োজনে দুই দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পীদের এই পরিবেশনা দুই দেশের অভিন্ন সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, এই ধরণের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা আমাদের দুই দেশের মানুষকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় কেবল শিল্পচর্চা নয়, বরং এটি পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, আস্থা অর্জন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। পহেলা বৈশাখকে বাঙালির পরিচয়, সহনশীলতা ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি বাংলার প্রাচীন কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
অনুষ্ঠানটি এইচএসবিসি বাংলাদেশের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রণয় ভার্মা বলেন, এই উদযাপনের মাধ্যমে মূলত ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যকেই উদযাপন করা হচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে শিল্প, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংলাপের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এনএন/ ১৯ এপ্রিল ২০২৬









