৩৪ বছর পর সরাসরি আলোচনায় বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা

তেল আবিব, ১৬ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ কয়েক দশকের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সরাসরি আলোচনায় বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দুই দেশের মধ্যে এই প্রথম সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থার মধ্যে নতুন এক কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে বুধবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কথা হতে যাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। তবে এই আলোচনা ঠিক কোন মাধ্যমে বা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে দীর্ঘ ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা। দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ১৯৯১ সালে মাদ্রিদ সম্মেলনে একটি শান্তিকাঠামোর আওতায় দুই দেশের নেতারা সর্বশেষ একই টেবিলে বসেছিলেন। সেই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো শান্তিচুক্তি ছাড়াই তা থমকে যায়।
এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি সংলাপ হয়নি। মূলত লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী প্রভাব এবং দেশটির ১৯৫৫ সালের কঠোর আইন যা ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে তা সরাসরি আলোচনার পথ বন্ধ করে রেখেছিল। এ যাবৎ দুই দেশের মধ্যে যে কোনো আলোচনা মূলত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন বা মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এস এম/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬









