হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ: বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি ও ভারতের উদ্বেগ

দিল্লী, ১৫ এপ্রিল – হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের কোনো হামলাকারী জাহাজ মার্কিন নৌ অবরোধের কাছাকাছি এলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি আলোচনায় যুদ্ধ অবসান নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, কেবল ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের পথই আটকানো হবে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি বাজার খোলার সাথে সাথে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্য ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে। আয়ারল্যান্ডে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। অস্ট্রেলিয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক শিল্পে ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচ কমাতে জার্মানিও বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভারতের ওপর এই সংকটের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে কারণ দেশটি জ্বালানি আমদানিতে ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদার বড় অংশই আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী দেশ এবং এর প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিকল্প রুটের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত এখনো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল।
কাতারের মতো বড় এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় ভারতীয় শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ ২০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারের কাঁচামাল আমদানিতেও বাধার সৃষ্টি হয়েছে যা ভারতের কৃষি খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমে ৬.৯ শতাংশে নামতে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং উপসাগরীয় দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এস এম/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬









