ইরানে হামলায় কেবল ট্রাম্পকে রাজি করাতে পেরেছিল ইসরায়েল: জন কেরি

ওয়াশিংটন, ১১ এপ্রিল – সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেছেন, ইরানে সামরিক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল ইসরায়েল। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই প্রস্তাবে রাজি না হলেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি দ্য ব্রিফিং উইথ জেন পসাকি অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেরি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার জন্য প্ররোচিত করেছিলেন।
কেরি নিজে এমন বেশ কয়েকটি আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে ইরানে আক্রমণ চালানো। কেরি আরও জানান, নেতানিয়াহু একটি চার দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করা, দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া। তবে বুশ, ওবামা এবং বাইডেনের মতো নেতারা এই ফাঁদে পা দেননি। একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই এই প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন।
অন্যদিকে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ওই হামলায় তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি। তারা ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও সীমিত করে দেয় তেহরান। পরবর্তীতে এই সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক মহল এগিয়ে আসে। পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন, সৌদি আরব ও মিসরের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই সমঝোতা অর্জিত হয়।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









