জাতীয়

সংসদে ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল’ পাস, সিএজির ক্ষমতা বৃদ্ধি

ঢাকা, ৮ এপ্রিল – দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ’ প্রতিস্থাপন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হলো। বিলে বলা হয়েছে, এই আইন ২০২৫ সালের ৪ মে থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। নতুন আইনের মাধ্যমে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) জন্য একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আওতায় প্রজাতন্ত্রের সব সরকারি হিসাব, আদালত, সরকারি সংস্থা ও কর্মচারীদের আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করা হবে। সিএজি নিজেই নিরীক্ষার পরিধি, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। সমন্বিত তহবিল থেকে ব্যয় করা সব অর্থ, রেলওয়ে ও ডাক বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে সরকারের অংশীদারিত্বও এই নিরীক্ষার আওতায় থাকবে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণ বা অনুদানের শর্তের যথাযথ বাস্তবায়ন যাচাই করার ক্ষমতাও সিএজিকে দেওয়া হয়েছে।

প্রচলিত আর্থিক নিরীক্ষার বাইরে গিয়ে অর্থনীতি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা ভিত্তিক নিরীক্ষা পরিচালনার ক্ষমতাও সিএজি পেয়েছে। সরকারের কমপক্ষে ৫১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এমন সব সরকারি দপ্তর, করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পেশাগত মান বজায় রাখতে সিএজি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে পারবেন। অফিসের পেশাগত নৈতিকতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করা যাবে।

বিলে বলা হয়েছে, সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর তা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। কোনো নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষকদের পেশাগত আচরণ নিয়ে আপত্তি তুললে সিএজি বাধ্যতামূলকভাবে তদন্ত শুরু করবেন। আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিএজি তার দপ্তরের বরাদ্দ করা বাজেটের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন। তবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা নতুন পদ সৃষ্টি করতে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এছাড়া সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগও রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সংসদ অধিবেশন না থাকায় আগে এটি বিল আকারে উপস্থাপন সম্ভব হয়নি। এ কারণে রাষ্ট্রপতি ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিলেন। এখন সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাস করা হলো।

এস এম/ ৮ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language