বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড: ২২ রেস্তোরাঁ মালিকের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযোগপত্র

ঢাকা, ২ এপ্রিল – রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আসামিদের মধ্যে ওই ভবনের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর মালিক ও ব্যবস্থাপকরা রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ২২ আসামির মধ্যে রয়েছেন চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক এবং স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল। এছাড়া কাচ্চি ভাই, খানাজ ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের আব্দুল্লাহ আল মতিন, রাসেল আহম্মেদ, সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদের নাম রয়েছে।
পাশাপাশি ষষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানার স্বত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অঞ্জন কুমার সাহা, অ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের জগলুল হাসান এবং স্ট্রিট ওভেনের আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেককে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় ভবনের স্পেস মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. আনোয়ার হোসেন সুমন ও শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতির সুপারিশ করেছে সিআইডি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বৈধ অনুমোদন ছাড়া এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করেন। এর ফলেই ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ওই ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে তিনজন সম্পূর্ণ পুড়ে যান। এছাড়া ১১ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নেন এবং ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ১ মার্চ পুলিশ বাদী হয়ে অবহেলা এবং বেপরোয়া কাজের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ঘটানোর অভিযোগে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল।
এনএন/ ২ এপ্রিল ২০২৬









