অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচার মামলা: সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৫ দিনের রিমান্ডে

পল্টন, ২৪ মার্চ – সিন্ডিকেট তৈরি করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানবপাচারের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। এদিন গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন এবং আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান বাদী হয়ে সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকা সত্ত্বেও আসামিরা একটি মাফিয়া চক্র গঠন করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করেছে যা সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থি। অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তার ছেলেকে চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
অন্যদিকে সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার পরিবারের সদস্য অর্থাৎ স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে একটি প্রবাসী অ্যাপ চালু করার অবৈধ অনুমোদন দিয়ে চক্রটিকে সহায়তা করেছেন।
আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে ৮৪১ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা করে মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছে।
এছাড়াও তারা সংঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা তুলে তা আত্মসাৎ করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ এম/ ২৪ মার্চ ২০২৬









