জাতীয়

সদরঘাট লঞ্চ দুর্ঘটনা: ছেলের কবরের পাশেই শায়িত হলেন বাবা মিরাজ ফকির

ঢাকা, ২২ মার্চ – রাজধানীর সদরঘাটে মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত মিরাজ ফকিরকে তার ছেলে সোহেল ফকিরের কবরের পাশেই শায়িত করা হয়েছে। শনিবার ঈদের নামাজের পর মিরাজ ফকিরের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে একই দুর্ঘটনায় নিহত তার একমাত্র ছেলে সোহেল ফকিরকে সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছিল। এই জানাজায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ৪৯ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মিরাজ ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

কেরানীগঞ্জের লবণের মিল সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ ভেসে ওঠে। এর আগে বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর স্থানীয় নুর মোহাম্মদ মৃধাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ছেলে সোহেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চর খাককাটা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গত ১৮ মার্চ বিকেলে সদরঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ইলিশা রুটের আসা যাওয়া ৫ লঞ্চে যাত্রী ওঠানোর সময় পেছন থেকে এমভি জাকির সম্রাট ৩ নামের আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ২২ বছর বয়সী সোহেল ফকির নিহত হন। তখন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন তার বাবা মিরাজ ফকির।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবা ফকির। তিনি বর্তমানে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সোহেলের চাচা ফারুক ফকির জানান, প্রায় দুই দশক আগে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে কাজ শুরু করেন মিরাজ ফকির। পাঁচ বছর আগে ছেলে সোহেলকেও সেখানে নিয়ে যান তিনি। দুই বছর আগে বিয়ে করে স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন সোহেল। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে সোহেলের মা ও তিন নাবালক বোন এখন দিশেহারা। ঈদের দিনেও পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছিল।

এস এম/ ২২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language