ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের, ৪৮ ঘণ্টায় তিন শীর্ষ নেতা নিহত

তেহরান, ১৮ মার্চ – ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধানকে হত্যার একদিন পার না হতেই এবার দেশটির গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল।
বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন মঙ্গলবার রাতের এক হামলায় ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের এই দাবি সত্য হলে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ইরানের তৃতীয় শীর্ষ নেতার হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হন। দুই দিনে তিন শীর্ষ নেতাকে হারানোর বিষয়টি ইরানের জন্য বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার আলি লারিজানি ও গোলামরেজা সোলেইমানির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন এসব হত্যাকাণ্ড দেশের নেতৃত্বের ওপর বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ইরান সরকার কোনও একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকদের মতে ইসমাইল খতিব ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ছিলেন।
একাধিক ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তিন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামরিক বাহিনীকে অন্যান্য শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার আগাম অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন। ফলে প্রতিবার নতুন করে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
মঙ্গলবার ইরান সরকার আলি লারিজানি ও সোলেইমানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল। আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা যিনি এর আগে পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এনএন/ ১৮ মার্চ ২০২৬









