ইরানে হামলায় কয়েক দিনেই ফুরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক বছরের যুদ্ধাস্ত্র

তেহরান, ১৩ মার্চ – প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মাত্র কয়েক দিনেই কয়েক বছরের সমপরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যাপক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে উন্নত প্রযুক্তির দূরপাল্লার টমাহক মিসাইলের মজুতে মারাত্মক টান পড়েছে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে হত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই অন্তত ১৬৮টি টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সিনেটররা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, টমাহকের পাশাপাশি থাড ইন্টারসেপ্টর এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইলের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। গত পাঁচ বছরে পেন্টাগন যে পরিমাণ টমাহক কিনেছিল, সাম্প্রতিক দিনগুলোতেই তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। সিনেট ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রন ওয়াইডেন জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ব্যয়ের খাতে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি টমাহক মিসাইলের মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ডলার। পরিস্থিতি সামলাতে পেন্টাগন খুব শিগগিরই কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদন করতে পারে।
তবে অনেক আইনপ্রণেতা বিনা শর্তে এই বিপুল অর্থ অনুমোদনে নারাজ। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ শুরু করায় অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য বিষয়টিকে বেআইনি আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এটি আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সাধারণ মার্কিনিরা জ্বালানির বাড়তি দামে অসন্তুষ্ট এবং পশ্চিম এশিয়ায় আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এ পর্যন্ত তাদের ১১ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। শুক্রবার সেন্টকম জানায়, ইরাকে একটি মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরও চার সেনার মৃত্যু হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, মার্কিন নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছে। এ অবস্থায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি ওয়াশিংটন নয়, বরং তেহরানই নির্ধারণ করবে।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬









