ইরানে মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হামলা, সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

তেহরান, ১২ মার্চ – ইরানের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি জানান, চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক আঘাত হানা হচ্ছে।
কুপারের দেওয়া তথ্যমতে, ৬০টির বেশি জাহাজসহ মোট সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর এই যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতউল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
অ্যাডমিরাল কুপার জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন হামলার তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকালও বিভিন্ন দিক থেকে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বহুমুখী হামলা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, ইরানের সোলাইমানি শ্রেণির চারটি যুদ্ধজাহাজের শেষটিও ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে ওই শ্রেণির নৌবহর পুরোপুরি যুদ্ধক্ষমতা হারিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ওই দিনটি ছিল সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন। অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এই ধারাবাহিক হামলার ফলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সামরিক উৎপাদন অবকাঠামোও ধ্বংস করা হচ্ছে।
গত রাতে মার্কিন বোমারু বিমান একটি বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানায় সফল হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশটিতে এখন আর প্রায় কোনো লক্ষ্যবস্তুই অবশিষ্ট নেই।
এনএন/ ১২ মার্চ ২০২৬









