ইউরোপ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বে বিভক্ত ইউরোপ, জার্মানি ও স্পেনের বিপরীতমুখী অবস্থান

ওয়াশিংটন, ৪ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। তেহরান ইউরোপীয় নেতাদের এই যুদ্ধে সরাসরি না জড়ানোর বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক স্থাপনায় ইরানি হামলার বিষয়ে ইউরোপ একমত হয়ে সমালোচনা করেছে, তবুও যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি পদক্ষেপ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়ায় অসামঞ্জস্যতা লক্ষ করা গেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ যেমন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে সেই চিত্রের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্পেন তাদের ঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান সরিয়ে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং মাদ্রিদের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এর ঠিক বিপরীত অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য মধ্যপন্থা অবলম্বন করছে। সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটি কেবল আত্মরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার জন্য সীমিত পদক্ষেপ। এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরানের ব্যালিস্টিক কর্মসূচির স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

সাইপ্রাসের সুরক্ষায় গ্রিস এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও ফ্রিগেট পাঠিয়েছে এবং ফ্রান্স অ্যান্টি-মিসাইল ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। ব্রিটেনও তাদের ঘাঁটি সুরক্ষায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে তারা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা দাবি করতে পারে না। তবে ইইউ চুক্তির ৪২.৭ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রেক্ষাপটে এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো জোরদারের প্রচেষ্টার মাঝে এই সংঘাত ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এস এম/ ৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language