মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের সিরিজ হামলা, যুক্তরাষ্ট্র কর্মীদের সরাচ্ছে

তেহরান, ৩ মার্চ – ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে দেশটি। এর জেরে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং বাহরাইনের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার পর সেখানে সামান্য মাত্রায় আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যার ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদে চালানো এই হামলায় মার্কিন দূতাবাসের সামান্য বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় আরও ড্রোন পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে জানিয়েছেন, দূতাবাসে হামলা এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই স্পষ্ট জবাব দেবে। তিনি বলেন, সবাই শিগগিরই বিষয়টি জানতে পারবেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকার আকাশে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের বিদেশি মিশন ও দূতাবাস অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা দূতাবাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের শিখা দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। হামলার সময় দূতাবাস ভবনটি খালি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে কূটনৈতিক এলাকার দিকে ধেয়ে আসা চারটি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে।
আইআরএনএর পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের নৌবাহিনী বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকার মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক মাত্রায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ঘাঁটির কমান্ড সদর দপ্তর ধ্বংস করার দাবি করা হলেও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি। শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারে ড্রোন হামলায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ইরানের ধারাবাহিক হামলার মুখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ইরাক থেকে জরুরি নয় এমন সব কর্মীকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের দ্রুত ওই সব দেশ ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেরুজালেমের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, ইসরায়েল ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা করতে তারা বর্তমানে অক্ষম। অন্যদিকে, রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরান শহরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের দূতাবাস এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসএএস/ ৩ মার্চ ২০২৬









