ইরানি ড্রোন হামলার জেরে কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, সংকটে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ

দোহা, ৩ মার্চ – ইরানের ড্রোন হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতার। সোমবার দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন আঘাত হানার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি আঘাত হানে মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস উৎপাদনকারী কেন্দ্র রাস লাফফানে।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাস লাফফান থেকে উৎপাদিত গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল যখন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়।
রয়টার্সের তথ্যমতে হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে অন্তত ১৫০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে যার মধ্যে গ্যাসবাহী জাহাজও রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এরই মধ্যে ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং প্রণালীর দুই প্রান্তে প্রায় ৭০০ জাহাজ অলস দাঁড়িয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাতারের গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কাতার থেকে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস আমদানিকারক হলেও তাদের চাহিদার বড় অংশ মেটায় অস্ট্রেলিয়া।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন সতর্ক করে বলেছেন উৎপাদন বন্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে এখনই একে পূর্ণাঙ্গ ক্রাইসিস বলা না গেলেও অবকাঠামোর ওপর বড় আঘাত আসলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
উল্লেখ্য বর্তমানে কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।
এনএন/ ৩ মার্চ ২০২৬









