চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ ঢাকায় চিকিৎসাধীন কর্মীর মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা, ১ মার্চ – চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাফিজুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
তিনি জামায়াতের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার হাসাদাহ বাজারে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মফিজুর রহমান, কর্মী মাহফুজ হোসেন এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান, তার পিতা জসিম উদ্দিন ও তৌফিক।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চারজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোরে রেফার করা হয় এবং বাকি দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুটিয়া গ্রামে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন গ্রামবাসীরা তাকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই ঘটনার জেরে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদাহ বাজারে গেলে মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন।
পরে ইফতারের পর খায়রুল ইসলাম দলীয় লোকজন নিয়ে মেহেদী হাসানের বাড়িতে গিয়ে কৈফিয়ত চাইলে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুলাইমান শেখ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এম ম/ ১ মার্চ ২০২৬









