চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন, গর্ভেই সন্তানের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা, ৪ জুন – চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, স্বামীর লাথির আঘাতেই তার গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বিপ্লব একই গ্রামের সাহাবুলের ছেলে। ভুক্তভোগী শিখা খাতুনও একই এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার শিখা খাতুন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপ্লবকে গ্রেফতার করে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব তার স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন যৌতুক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। শিখার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় এসব দাবি পূরণ করতে পারেনি। এর জেরে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

শিখা খাতুন জানান,

গত ৩১ মে রাতে বিপ্লব বাজার থেকে ফিরে পুনরায় যৌতুক দাবি করেন। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি শিখাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে বিপ্লব শিখার পেটে সজোরে লাথি মারলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে ১ জুন আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে চিকিৎসক জানান যে গর্ভের সন্তানটি আর বেঁচে নেই। পরে শিখা খাতুন মৃত সন্তান প্রসব করেন। সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. সোলায়মান শেখ জানান, ভুক্তভোগী নারী ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। মৃত ভ্রূণের ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এস এম/ ৪ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language