ভূমিকম্পে আতঙ্কিত না হয়ে যেসব সতর্কতা মানার পরামর্শ ফায়ার সার্ভিসের

সাতক্ষীরা, ২৮ ফেব্রুয়ারি – সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বেশ কয়েকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল ৫ দশমিক ৪ মাত্রার যে ভূমিকম্পটি দেশকে কম্পিত করে, তার উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরায়।
গত কয়েক মাসে সংঘটিত এসব ভূমিকম্পের অধিকাংশেরই উৎস ছিল দেশের অভ্যন্তরে। এমতাবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতির যথাযথ মোকাবেলা করাই হলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের অন্যতম কৌশল।
এ লক্ষ্যে তারা কিছু সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। ভূকম্পন অনুভূত হলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত ও স্থির থাকতে হবে। ভবনের নিচতলায় অবস্থানরতদের দ্রুত বাইরে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া উচিত। যারা বহুতল ভবনে আছেন, তাদের ‘ড্রপ কাভার হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ কম্পন শুরু হলে নিচু হয়ে শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে খুঁটি শক্ত করে ধরে রাখতে হবে অথবা কলামের পাশে বা বিমের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। সম্ভব হলে বালিশ বা কুশন দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা জরুরি। ভূমিকম্প চলাকালীন কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না এবং কম্পন থামার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। বারান্দা, জানালা, বুকশেলফ বা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে এবং হাতের কাছে টর্চ, হেলমেট ও জরুরি ওষুধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, উঁচু ভবন ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। গাড়িতে থাকা অবস্থায় ওভারব্রিজ বা ফ্লাইওভার এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে ভেতরেই অবস্থান করতে হবে।
একটি ভূমিকম্পের পর পুনরায় আফটারশক হতে পারে, তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন বা অবকাঠামো থেকে দূরে থাকা জরুরি। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন নম্বর ১০২ এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এম ম/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









