কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, তীব্র প্রতিক্রিয়া হাভানার

ওয়াশিংটন, ২৮ ফেব্রুয়ারি – লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবাকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে মেরিন ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।তাঁর এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্প জানান যে বর্তমানে খুব উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ রূপান্তরে গড়াতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী কিউবার সরকার বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে কিউবার কাছে এখন অর্থ, তেল বা পর্যাপ্ত খাদ্য নেই এবং তারা বড় সংকটে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চাইছে। ট্রাম্প কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কিউবা সম্পর্কিত নীতি নির্ধারণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যিনি হাভানার কমিউনিস্ট সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ নামে পরিচিত ওই অভিযানের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় আর তেল বা অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে না। ২৯ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশে তিনি কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।
এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কিউবায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই অবরোধমূলক নীতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৫ সালের অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও বর্ধিষ্ণু জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করার পর থেকে গাজা, ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড ও পানামা নিয়ে প্রভাব বিস্তারের বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ কানেল ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কিউবার অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করতে চাইছে।
এনএন/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









