ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়া বাদ পড়লেই পাকিস্তানের শিরোপা ভাগ্য! বিশ্বকাপের কাকতালীয় সমীকরণ

ক্যানবেরা, ২২ ফেব্রুয়ারি – ক্রিকেটের মাঠে কাকতালীয় ঘটনা নতুন কিছু নয়, তবে আইসিসি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একটি বিশেষ প্যাটার্ন বারবার ফিরে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে কোনো বড় আসরের গ্রুপপর্ব থেকে অস্ট্রেলিয়া বিদায় নিলেই যেন পাকিস্তানের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। চলমান টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অজিদের বিদায়ে সেই পুরোনো সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন পাকিস্তানি সমর্থকরা। পাকিস্তান এখন পর্যন্ত তিনটি বড় আইসিসি শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে।

১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইমরান খানের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেই আসরে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল। দ্বিতীয় নজিরটি দেখা যায় ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেবারও অজিরা গ্রুপপর্ব পার হতে ব্যর্থ হয় এবং ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। তৃতীয় সাফল্য আসে ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।

সেই আসরেও অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্বে থামলে ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে পাকিস্তান। এবারের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে ট্রাভিস হেড ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের। ফলে ক্রিকেট বিশ্বে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সেই ঐতিহাসিক সমীকরণ। অন্যদিকে গ্রুপপর্বে চার ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান।

ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বোলিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে। ২০টি দল নিয়ে শুরু হওয়া এই আসরে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে মোট আটটি দল সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে সেরা আটের লড়াই। সুপার এইটের গ্রুপ ওয়ানে রয়েছে ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ টু তে পাকিস্তানের সঙ্গী শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পরিসংখ্যান সমর্থকদের স্বপ্ন দেখালেও শিরোপা জিততে মাঠে ধারাবাহিক ও নির্ভুল পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিদায় শুভ সংকেত হতে পারে, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।

এস এম/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language