সিরাজগঞ্জে নির্বাচনের নিরাপত্তায় চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও বিজিবির বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন

সিরাজগঞ্জ, ১০ ফেব্রুয়ারি – আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্যরা ভোটের আগে ও পরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী সরঞ্জাম আনা নেওয়ার কাজেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। চৌহালী উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে অতীতে অপরাধ প্রবণতার রেকর্ড থাকা ১৩টি কেন্দ্রকে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে সিরাজগঞ্জ ১ আসনে যমুনা নদীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত ৬টি ইউনিয়নে ভোটের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নে ৪০ সদস্যের একটি বিজিবি টিম এবং চরগিরিস ও মনসুরনগর ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর ৬০ সদস্যের দুটি টিম ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসফিকা হোসেন জানান যে সিরাজগঞ্জ ৬ আসনে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নে ১০ ফেব্রুয়ারি ৩০ সদস্যের সেনাবাহিনীর একটি টিম ক্যাম্প করবে এবং পুলিশ সদস্যরাও মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করবেন। এই উপজেলায় মোট ১৬০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন। জেলার ৯২৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৮১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ৪৬৪টি ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটের নিরাপত্তায় ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহ ১ হাজার ৩৭৪ জন সেনা সদস্য এবং ৯৬ জন র্যাব সদস্য ও ৩৬০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়াও ১ হাজার ৯৮৪ জন পুলিশ ও ১২ হাজার আনসার সদস্য ভোট কেন্দ্র ও ভোটারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন এবং পুলিশ সদস্যদের কাছে অন্তত ৩০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যে দুর্গম চরাঞ্চলসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সরজমিন পরিদর্শন করে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য অন্তত ৩টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের জন্য নৌকা ও ঘোড়ার গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এ এম/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









