সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ‘চেকিংয়ের’ নামে চাঁদাবাজি, হাতেনাতে ধরা খেয়ে একযোগে ক্লোজড ৫ পুলিশ সদস্য

সিরাজগঞ্জ, ২৪ মে – সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মহাসড়কে তল্লাশির নামে গাড়ি থামিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তারা সবাই হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় কর্মরত ছিলেন।

আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের এমন কঠোর অ্যাকশনে মহাসড়কের চালকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মহাসড়কে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট চালানোর দায়ে অভিযুক্ত যে পাঁচজনকে প্রত্যাহার করে হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া সার্কেলে সংযুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন: এসআই তোফাজ্জল হোসেন, এএসআই সোহেল রানা, কনস্টেবল লিটন, কনস্টেবল আব্দুর রউফ এবং কনস্টেবল ফজলু শেখ।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় পরিবহন চালকদের সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের ব্যস্ততম হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এই পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ‘চেকিং’-এর নামে রাজত্ব চালাচ্ছিলেন। মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করা বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তারা চালকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, কোনো চালক বা মোটরসাইকেল আরোহী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা প্রতিবাদ করলে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে মোটা অঙ্কের জরিমানার ও ভুয়া মামলার ভয় দেখানো হতো। বাধ্য হয়েই চালকরা তাদের পকেটের টাকা তুলে দিতেন।

জানা গেছে, এই চক্রটির চাঁদাবাজির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বা লক্ষ্যবস্তু ছিল পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং সাধারণ মোটরসাইকেল। সম্প্রতি তাদের এই অবৈধ অর্থ আদায়ের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই রোববার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী যেকোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়ককে চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে এই ধরনের অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

এনএন/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language