ইরানের জলসীমা থেকে মার্কিন জাহাজগুলোকে দূরে থাকার নির্দেশ

ওয়াশিংটন, ১০ ফেব্রুয়ারি – ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে ইরানের জলসীমা থেকে মার্কিন জাহাজগুলোকে যথাসম্ভব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য এই নতুন সতর্কতা জারি করা হয়।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ইউএস ম্যারাড এই নির্দেশনা প্রকাশ করে।
নির্দেশনায় বলা হয়, মার্কিন জাহাজের ক্যাপ্টেনদের এমনভাবে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানি বাহিনী জাহাজে ওঠার সুযোগ না পায়। তবে যদি ইরানি বাহিনী কোনো মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে উঠে পড়ে, সেক্ষেত্রে নাবিকদের জোরপূর্বক প্রতিরোধ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সম্মতি না দিলেও পরিস্থিতির শিকার হয়ে মেনে নেওয়ার বিষয়টি এতে স্পষ্ট করা হয়।
নৌ নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় মার্কিন জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পূর্বমুখী যাত্রার সময় ওমানের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে চলাচলের সুপারিশ করা হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আশির দশকে ইরান ও ইরাক যুদ্ধের সময় উভয় দেশ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল, যা ট্যাংকার যুদ্ধ নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি গোষ্ঠীটির।
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এক ইরানি নীতিনির্ধারক। যুক্তরাষ্ট্র সরকার হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে বিবেচনা করে।
জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ওই এলাকায় নৌ মহড়া চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অপেশাদার আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
পরবর্তীতে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে যে ওই অঞ্চলে তাদের একটি রণতরীর কাছে চলে আসা একটি ইরানি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
এর আগে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছিল। ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ওমান উপসাগরে নিজেদের জলসীমায় চারটি জাহাজে নাশকতার অভিযোগ তুলেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় এলাকায় জাহাজের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো বড় হুমকির খবর পাওয়া যায়নি।
এনএন/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









