নাটোরে কয়েলের আগুনে পুড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু, দগ্ধ ২

নাটোর, ৯ ফেব্রুয়ারি – নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা ও শিশু মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামে মো. জান্টুর বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই গ্রামের জান্টুর স্ত্রী আতিয়া খাতুন (২২) ও তার দুই বছরের শিশু কন্যা রওজা। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়ির গোয়াল ঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে জান্টুর স্ত্রী আতিয়া খাতুন তার বড় ছেলে এলাহীকে (৯) ঘর থেকে বের করে দিতে সক্ষম হন। কিন্তু ছোট মেয়ে রওজাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি আটকা পড়েন এবং আগুনের তীব্রতা থেকে বাঁচতে মেয়েকে নিয়ে খাটের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানেই আগুনে পুড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জান্টুর মা মনেকা বেগম (৫৫) গুরুতর দগ্ধ হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গৃহকর্তা জান্টুও আগুনে আহত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনরা জানান, আগুনে তিনটি বসতঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি গোয়ালঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র ছাড়াও ১২টি ছাগল ও ২টি গরু পুড়ে মারা গেছে। প্রতিবেশী মিখজার আলী প্রামানিকের একটি মুদি দোকান ও বসতঘরও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুদাসপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়ে তাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সেখান থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা, শুকনা খাবার ও কম্বল প্রদান করেন। পরবর্তীতে ঢেউটিন ও অন্যান্য সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ এম/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









