দক্ষিণ এশিয়া

ভারতে নয় তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যা, বাবার তিন স্ত্রী নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নয়াদিল্লি, ৮ ফেব্রুয়ারি – নয়তলা ভবন থেকে লাফিয়ে তিন কিশোরী বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় ভারতের গাজিয়াবাদে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিহত তিন বোন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) কোরিয়ান সংস্কৃতি ও ড্রামার প্রতি এতটাই আকৃষ্ট ছিল যে, তারা নিজেদের ভারতীয় পরিচয়ের বদলে ‘কোরিয়ান’ পরিচয়েই গর্ব বোধ করত। তারা নিজেদের জন্য বিদেশি নামও বেছে নিয়েছিল— মারিয়া, আলিজা ও সিন্ডি।

তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, বোনদের বাবা চেতন কুমার পেশায় স্টকব্রোকার ছিলেন এবং প্রায় দুই কোটি রুপি ঋণের চাপে ছিলেন। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় তিনি মেয়েদের দুটি মোবাইল ফোন বিক্রি করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, মেয়েরা কোরিয়ান ড্রামা, কে-পপ এবং অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল, সে কারণেই তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনগুলো কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

আত্মহত্যার রাতেও তারা মায়ের ফোন ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ফোনে তাদের প্রিয় কোরিয়ান অ্যাপগুলো না থাকায় তারা আরও হতাশ হয়ে পড়ে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ওই রাতে অনলাইনে কোরিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরেই তারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, চেতন কুমারের তিন স্ত্রী— সুজাতা, হিনা ও টিনা— আপন তিন বোন। নিশিকা ছিলেন বড় বোন সুজাতার মেয়ে, আর প্রাচী ও পাখি ছিলেন মেজো বোন হিনার সন্তান। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েদের মায়েদের তুলনায় বাবার প্রতি আবেগ বেশি ছিল। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে বারবার বাবার নাম লেখা থাকলেও কোথাও মায়েদের নাম পাওয়া যায়নি।

আরও একটি রহস্যজনক তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে চেতন কুমারের এক লিভ-ইন পার্টনারও একইভাবে ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। সে সময় পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে নিলেও, বর্তমান ঘটনার পর সেই মামলার পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে সাইবার ক্রাইম টিম বিক্রি হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে ফোনের বর্তমান ক্রেতাদের খোঁজা হচ্ছে, যাতে মেয়েদের মোবাইল থেকে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার করা যায়।

এই ঘটনাটি শুধু তিন কিশোরীর আত্মহত্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি পরিবারের গভীর গোপন রহস্যের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান।

এনএন/ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language