আইন-আদালত

রামপুরায় হত্যাযজ্ঞ: হাবিবুরসহ ৫ জনের সর্বোচ্চ সাজা চায় প্রসিকিউশন

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি – রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে জুলাই আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সারাদেশের মতো রামপুরায়ও ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিরস্ত্র আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য। এছাড়া ওই ঘটনায় আরও দুজনকে শহীদ করা হয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে এ মামলার পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ সাজার প্রার্থনা জানানো হয়েছে।

এ মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবুর রহমান ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

উল্লেখ্য যে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল ১ এবং এর আগে ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

ঘটনার বিবরণী অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশ পিছু নিলে একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকা অবস্থায় তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি এবং একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।

এনএন/ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language