দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলা-হেনস্তার অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি – লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলা-হেনস্তার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তারা এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছিল, সেই সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নামধারী সন্ত্রাসীরা এমন কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, যা চরম হতাশাজনক। লালমনিরহাট, মনোহরগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুরসহ ছয়টি স্থানে মা-বোনদের ওপর যে বর্বর হামলা হয়েছে, তা কোনো সভ্য রাজনৈতিক পরিবেশের পরিচয় বহন করে না।
তারা আরও বলেন, বিশেষ করে লালমনিরহাটে একজন সম্মানিত নারীর হিজাব টেনে খোলার ধৃষ্টতা যে যুবদল নেতা দেখিয়েছে, তা কেবল ওই নারীর ওপর আক্রমণ নয়, বরং সমগ্র নারীজাতির মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করার অংশ। আজও (সোমবার) টাঙ্গাইলে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে, তারা পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
নেতারা বলেন, নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি বিএনপি ও ছাত্রদলের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও তারা ধারাবাহিকভাবে নারীদের সম্মানহানি করেছে। ২০০২ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন্নাহার সনি হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ও রোকেয়া হলে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ইতিহাস তাদের আছে। এছাড়া অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেড় বছরে অর্ধশতাধিক ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, নারীদের কুরআন বিতরণ ও তালিমে হামলাসহ ইতোমধ্যে শতাধিক স্থানে পর্দানশিন নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপি যুবদল সন্ত্রাসীরা। যারা মা-বোনদের সম্মান দিতে পারে না, তারা কখনো দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নেতারা বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দিনে ছয়টি স্থানে নারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের নীরবতা এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের রাজনীতি ছাত্রসমাজ বরদাস্ত করবে না। হিজাব ও পর্দানশিন নারীদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের মূলে কুঠারাঘাত। আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
নেতারা বলেন, আমরা দ্রুত লালমনিরহাটের হিজাব অবমাননাকারী সন্ত্রাসীসহ সব হামলাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
এনএন/ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬









