জাতীয়

ঢাকার স্কুলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক কারাগারে

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি – ঢাকার পল্টনের একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি তারিখ ঠিক করেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ ঠিক করে পবিত্র কুমারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন ভোরে মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জানান, রিমান্ড আবেদন করা হলেও পল্টন মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক শুনানির নতুন তারিখ ধার্য করেন।

আদালতে দাঁড়িয়ে থাকা পবিত্র কুমার সাংবাদিকদের বলেন, “পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টিকে ভাইরাল করার জন্য যেভাবে বলা হচ্ছে, ওইভাবে তাকে মারা হয়নি।”

‘শারমিন একাডেমিতে’ ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যে ৪ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটির মা বৃহস্পতিবার পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলায় পবিত্র বড়ুয়া এবং তার স্ত্রী শারমিন জামানকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর স্কুল বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে যান।

পল্টন থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, “ঘটনার পর পবিত্র কুমার বড়ুয়া মিরপুরে এক স্বজনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। শিক্ষিকাকে এখনও পাওয়া যায়নি, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজন ব্যক্তির কাছে শিশুটি অভিযোগের মতো কিছু বলছিল।

সোফায় বসানো শিশুটিকে ওই নারী বারবার চড় মারছিলেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তি স্ট্যাপলার হাতে শিশুর মুখে চাপ দেওয়ার ভান করে এবং বারবার হাত দিয়ে তাকে থামতে বলছিলেন। পরে পুরুষ ব্যক্তি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটিকে সোফায় গলায় ধরে চেপে ধরেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে ঘটে। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।

এনএন/ ২৩ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language