জাতীয়

ছুটির দিনেও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি – ছুটির দিন হওয়ায় কলকারখানা ও যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকার কথা থাকলেও বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সাধারণত ছুটির দিনে বায়ুর মান কিছুটা ভালো থাকার প্রত্যাশা থাকলেও আজ সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে আছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা স্কোর ছিল ২৭৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবারের পর আজও ঢাকার অবস্থান শীর্ষেই রয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই তালিকায় ঢাকার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীনের সাংহাই ও ভারতের দিল্লি। এই দুই শহরের বায়ুমান স্কোর ছিল যথাক্রমে ২৩২ ও ২১৬। চলমান শুষ্ক মৌসুমে সাধারণত দিল্লি বা পাকিস্তানের লাহোর শীর্ষে থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে দূষণের দিক থেকে ঢাকা টানা এগিয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমান সূচক ২০০ ছাড়ালেই সেটিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। কিন্তু আজ ঢাকার পরিস্থিতি সেই সীমাও অতিক্রম করেছে এবং কিছু এলাকায় দূষণের মাত্রা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের বায়ুমান পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকার অন্তত আটটি এলাকায় দূষণের মাত্রা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে নিকুঞ্জ এলাকার এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড স্টেশনে বায়ুমান স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৪২২, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পড়ে।

এ ছাড়া ধানমন্ডিতে ৩০০, ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ২৮৫, দক্ষিণ পল্লবীতে ২৮৫, বে’জ এজওয়াটারে ২৮১, বেচারাম দেউড়িতে ২৮০, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ২৭৩ এবং গোড়ান এলাকায় ২২৪ স্কোর পাওয়া গেছে। সাধারণভাবে বায়ুমান ৩০০ ছাড়ালে তাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়, যা আজ ঢাকার একাধিক এলাকায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পর্যায়ে নানা প্রকল্প ও উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার তেমন কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, দূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আইকিউ এয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকার বায়ু যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘরের জানালা বন্ধ রাখা এবং বাইরে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান বায়ু পরিস্থিতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language