মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৫৩৮, গ্রেপ্তার ১০ হাজারের বেশি

তেহরান, ১২ জানুয়ারি – ইরানে গত ১৫ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬ শতাধিক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে সংস্থাটি বলেছে, নিহত ও গ্রেপ্তারের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ গত তিন দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও আন্তর্জাতিক কল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় সহিংসতা ও হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

রোববার ইরানের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে। রাজধানী তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভাষ্য, মর্গে জায়গা না থাকায় নতুন আসা মরদেহ ফেরত পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহত বা গ্রেপ্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকট ও ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের কারণে ইরানি রিয়েল বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার।

জাতীয় মুদ্রার এই অবনতির ফলে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দিলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামে আন্দোলন বিস্তৃত হয়। বর্তমানে দেশটির বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হলে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।

এনএন/ ১২ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language