কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বন্ধের পথে দোহা শান্তি আলোচনা

কুয়েত সিটি, ২৯ জুন – যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গত রবিবার পরিচালিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলো। কুয়েত তাদের আকাশসীমায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে বাহরাইনে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটন হামলা বন্ধ না করলে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
এর আগে গত শনিবার কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানির তেলবাহী জাহাজ এম/টি কিকু হরমুজ প্রণালির কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয় বলে জানায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ওই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন মজুত কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায়।
এর জবাবেই রবিবার কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি অবশ্যই তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর বাইরে নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কেবল উত্তেজনাই বাড়াবে।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আঞ্চলিক চুক্তিটি লেবানন ও সিরিয়া ফ্রন্টের চলমান সংঘাতের কারণে আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সংঘর্ষ থামেনি।
দক্ষিণ লেবাননের দেইর সিরিয়ান এলাকায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলানি ব্রিগেডের প্লাটুন কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডেভিড হাজুত নিহত হন। অন্যদিকে সিরিয়ার দারা প্রদেশেও ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানিয়েছে যে দোহায় নির্ধারিত আলোচনা মঙ্গলবার যথাসময়ে শুরু হবে। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬









