তিস্তার গজলডোবা ব্যারাজের গেট খোলা, লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লালমনিরহাট, ২৯ জুন – ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের সাথে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে পানির চাপ সামাল দিতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটও খুলে দিয়েছে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় জানান, রবিবার বিকেলে গজলডোবা ব্যারাজের গেটগুলো খুলে দেওয়ার পর থেকেই তিস্তার পানি হু হু করে বাড়তে থাকে।
সোমবার বিকেলে ডালিয়া পয়েন্টে পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাটি এলাকায় প্লাবন পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানির তোড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার পাঁচটি উপজেলায় অন্তত ১৩টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হঠাৎ এই আকস্মিক বন্যায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার কয়েক ডজন গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় আমনের বীজতলা, চিনাবাদাম ও সবজি ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, পানির এই ওঠানামা তাদের ফসল রক্ষায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের বীজতলা পচে নষ্ট হওয়ায় নতুন করে চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ পানি ওঠায় তারা গবাদিপশু ও শিশুদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক জায়গায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকা হাতে পেলেই শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে। ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও উজানের ঢলের কারণে পানি যেকোনো সময় আরও বাড়তে পারে, তাই চরাঞ্চলবাসীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬









