দক্ষিণ এশিয়া

আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৮ জন নিহত, হতাহত আরও বাড়ার শঙ্কা

কাবুল, ০৩ নভেম্বর – উত্তর আফগানিস্তানের অন্যতম বড় শহর মাজার-ই-শরিফের কাছে ভূমিকম্পে অন্তত আটজন মারা গেছেন, আহত হয়েছে ১৮০ জন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র সামিন জোয়েন্দা বলেছেন, উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত আড়াইটায় সেখানে ভূমিকম্প হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৩; উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৮ দশমিক কিলোমিটার গভীরে।

সেখানে ‘বহু হতাহত’ এবং ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে ইউএসজিএস।

মাজার-ই-শরিফ হল বালখ প্রদেশের রাজধানী। প্রদেশটির তালেবান মুখপাত্র হাজি জায়িদ এক্স পোস্টে বলেছেন, শোলগারা জেলায় ‘অনেক মানুষ আহত’ হয়েছে।

হাজি জায়েদ এর আগে এক পোস্টে লিখেছিলেন, তারা প্রদেশের সব জেলা থেকে ‘সামান্য আহত ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির’ খবর পেয়েছেন।

“বেশিরভাগই আহত হয়েছেন উঁচু ভবন থেকে নিচে পড়ে।”

বিবিসি লিখেছে, মাজার-ই-শরিফে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ভূমিকম্পের সময় অনেক বাসিন্দা তাদের ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় রাস্তায় ছুটে যান।

বালখের তালেবান মুখপাত্র এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে মাজার-ই-শরিফের ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্লু মসজিদের চারপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ধর্মীয় এই স্থাপনাটি প্রথম শিয়া ইমামের সমাধিস্থল বলে বিশ্বাস করা হয় — যিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সেখানে প্রার্থনার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব হয়।

কাবুল পুলিশের তালেবান মুখপাত্র খালিদ জাদরান এক্স পোস্টে লিখেছেন, পুলিশের দলগুলো পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে।

ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ।

এর আগে গত অগাস্ট মাসের শেষে পূর্ব আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

ওই অঞ্চলের অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাদামাটি ও কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় ভূমিকম্পে ঘর ধসে পড়ে এবং অনেক মানুষ ভেতরে আটকা পড়ে যায়। সে কারণে প্রাণহানিও হয় বেশি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এনএন/ ০৩ নভেম্বর ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language