পশ্চিমবঙ্গ

অসুরের মুখ যেন মহাত্মা গান্ধি ! তুমুল বিতর্কের পর বদলানো হল মূর্তির মুখ

কলকাতা, ০৩ অক্টোবর – দক্ষিণ কলকাতার রুবি পার্কের অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে ওঠে আসছে সমালোচনার ঝড়। এই দুর্গাপুজোয় মহাত্মা গান্ধীর আদলে রূপ দেওয়া হয়েছে মহিষাসুরকে। আর তাতে ক্রমে বিতর্ক বেড়ে চলেছে। এই বিতর্কের মূলে ওঠে আসছে একজনেরই নাম। তিনি হলেন পুজোর মূল উদ্যোক্তা চন্দ্রচূড় গোস্বামী।

২০২১ সালে কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও তিনি খুব ভালো ফল করতে পারেননি। মাত্র ৮১টি ভোট পেয়েছিলেন। আর এবার তিনি গান্ধীর আদলে অসুরের মূর্তি তৈরি করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে আমাকে ফোন করে মূর্তি বদলে দিতে বলা হয়েছিল।’ তবে তার সাফ কথা, ‘আমি সত্যি কথা বলতে ভয় পাই না গ্রেফতার হলে হব।’ ইতোমধ্যে এই ঘটনায় কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে পুলিশের তরফে এই পুজোর অসুরের মূর্তিতে চুল এবং গোঁফ লাগিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ কলকাতার রুবি পার্ক এলাকায় এই পুজোটির আয়োজন করেছে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তাদের মণ্ডপে দেবী দুর্গার মূর্তি চিরায়ত, তবে অসুর রূপে রাখা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীকে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেবী দুর্গার তার অস্ত্র দিয়ে ‘বাপু’কে বধ করছেন।

ইতোমধ্যেই অসুররূপী গান্ধীজিকে দেখে নিন্দার ঝড় বইছে। বিষয়টিকে কেলেঙ্কারি বলে আইনি পদ্ধতিতে এর বিরোধিতা করার দাবি ওঠেছে সোশাল মিডিয়ায়। টুইটারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কলকাতা পুলিশেরও। জানা গেছে, প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা আইনজীবী নেতা কৌস্তভ বাগচি টিটাগড় থানায় এ নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র দফতরের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা উচিত বলে মনে করেন সিপিএম নেতা চয়ন ভট্টাচার্য।

সংবাদ মাধ্যমে হিন্দু মহাসভার তরফে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। ওই দিন দুর্গাপুজোর মধ্যে পড়েছে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার তরফে। যদিও ২ অক্টোবর অর্থাৎ গান্ধী জয়ন্তীর দিনটি অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা ‘কালা দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে।

পুলিশ সুত্রে খবর, কলকাতার বাইপাস কানেক্টরে রুবি পার্কের কাছে এই প্রথম পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পাঁচ বছরের কম সময়ের পুজো হওয়ায় পুলিশি অনুমতি নেই। তবে প্রশাসন এই পুজো বন্ধ করবে না বলেই জানা গেছে। পুলিশ সপ্তমীর রাতেই অসুরের রূপ বদলের নির্দেশ দিয়েছিল। জানা গেছে, সেই রূপ বদলের কাজ হয়েছে।

এদিকে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার তরফে দাবি, কলকাতা পৌরনিগম, দমকল বাহিনী এবং বাকি সব অনুমতি নিয়েই পুজো হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ০৩ অক্টোবর ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language