টলিউড

সিনেমা জগতের অন্ধকার দিক নিয়ে মুখ খুললেন সৃজিত

কলকাতা, ৩১ মে – ভারতীয় টিভি অভিনেত্রী পল্লবী দের মৃত্যুরহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। গত বুধবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় কলকাতার মডেল-অভিনেত্রী বিদিশা দে মজুমদারের ঝুলন্ত মরদেহ। গত শুক্রবার মডেল-অভিনেত্রী মঞ্জুষা নিয়োগীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ। পরপর এ তিনটি ঘটনা নিয়ে হইচই পড়ে যায় দুই বাংলায়।

কিন্তু কী কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন উঠতি মডেল-অভিনেত্রীরা। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শোবিজ অঙ্গনের ঝলমলে আলোর ওপাশের অন্ধকারের কথা জানিয়েছেন টলিউডের গুণী নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। তার ভাষায়—‘ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন কেউ কাজ করতে চাইলে তাকে সোজা বারণ করি। এমন নৈরাশ্যের জায়গা, যেখানে সাফল্যের দৈনিক হার এক বা দুই শতাংশ, সেখানে কারো আসা ঠিক নয়। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও হতাশাই বেশি মিলবে। এমন ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কাজ করতে আসে?’

ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। তা উল্লেখ করে সৃজিত মুখার্জি বলেন, ‘আমরা শুধু ঝলমলে তারকাদের দিকে তাকিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের স্বপ্ন দেখি। বাস্তব যে কী, তা নিয়ে কেউ বিশেষ মুখ খুলেন না। নতুন প্রজন্মকে তো এই ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব দিকটা জানতে হবে।’

নতুন ছেলেমেয়েরা সিনেমা বা ধারাবাহিকে কাজ করতে চেয়ে সৃজিতের পরামর্শ চান। তা স্মরণ করে সৃজিত বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলি, এখানে কাজ করতে এসো না। সিনেমায় কাজ করা আর হাঙরের সঙ্গে সাঁতার কাটা দুটোই এক। অনেকে সংবাদমাধ্যমে সাফল্যের আলো দেখে এই কাজে আসতে চান। তারা জানেন না এই আলো অনেক পরে শুধু কয়েকজনের ওপরেই পড়ে।’

বিদেশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে সৃজিত মুখার্জি নির্মাণে আসেন। অভিনেত্রী মাধবী মুখার্জি সৃজিতকে এই অঙ্গনে আসতে এক প্রকার না-ই করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন—‘সিনেমার জগতে সাফল্য পাওয়া ভীষণ কঠিন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্মুখীন হতে হবে। এই জগত যথেষ্ট নোংরা। এ দিকে পা বাড়ানো বোকামির নামান্তর।’

যদিও অভিনেত্রী মাধবীর কথায় কান দেননি সৃজিত। তার ভাষায়—‘‘এটা আসলে ‘বাঞ্জি জাম্পিং’-এর মতো। বারণ করলেও অনেকে ঝাঁপ দিতে চায়। যারা চায়, তাদের নিয়েই কাজ হচ্ছে।’’

এম এস, ৩১ মে


Back to top button
🌐 Read in Your Language