
আদ্দিস আবাবা, ০৬ নভেম্বর- ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে নির্বাচন পরবর্তী কয়েক মাস যাবত চলা উত্তেজনার পর সহিংসতায় ৫৪ জনের প্রাণহানীর প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির নোবেলজয়ী প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি আহমেদ। গতবছর (২০১৯) বিশ্ব শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার এক বছরের মাথায় নিজ দেশেই রাজনৈতিক জটিলতা থেকে সৃষ্ট সহিংসতার সামালে জরুরি অবস্থা জারি করলেন।
শনিবার জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়ে অ্যাবি সাধারণ মানুষের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের নির্মূলের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ: স্থানীয় প্রশাসনের প্রশ্রয়ে ওই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় ফেডারেল সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটছে, পাশাপাশি করা হচ্ছে সমরাস্ত্র লুটপাটের চেষ্টা। এসবের জন্য তিনি জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টকে দায়ী করেন।
আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে: সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়াচ্ছে ওই অঞ্চলে। এমন প্রেক্ষাপটে গত রোববার অঞ্চলটিতে হামলা-পাল্টা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধ-শতাধিক মানুষ।
এ ঘটনার পর গত বুধবার ভোরে প্রধানমন্ত্রী অ্যাবি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে টাইগ্রে অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রসাশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ফেডারেল সরকারের ক্রমবর্ধমান উত্তেজার কথা তুলে ধরে তার রাশ টেনে ধরার ইঙ্গিত দেন।
গত রোববারের সহিংসতায় ফেডারেল সরকারের দেওয়া ভাষ্যমতে: টাইগ্রে অঞ্চলে তিনটি গ্রামে হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়। ‘ওরোমিয়া এলাকার অমহরা সম্প্রদায়’ক সম্প্রদায়কে হামলার নিশানা বানানো হয়। এসময় তাদের ২০টির মতো বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট।
অবশ্য টাইগ্রে অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রশাসক ইলিয়াস উমেটা দাবি করেছেন: ‘টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’ নয় হামলার ঘটনার সঙ্গে ‘ওরোমো লিবারেশন ফ্রন্ট’ নামের এক সশস্ত্র সংগঠন জড়িত। প্রাথমিক ভাবে সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আক্রান্ত এলাকা থেকে ৭৫০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নিয়ে আসা হয়েছে।
সূত্রঃ চ্যানেল আই
আডি/ ০৬ নভেম্বর









