খারাপের একটা সীমা থাকে: ‘ক্ষুব্ধ’ মুশফিক

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মুশফিকুর রহিমের শিরোপার অপেক্ষা আবারো বাড়ল। দূরন্ত রাজশাহীর হয়ে ২০১২ সাল থেকে যে লড়াইয়ে আছেন তা এখনও পূর্ণ হয়নি। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এলিমিনেটর ম্যাচ থেকে তার দল খুলনা টাইগার্স বিদায় নেয়। চারে থেকেই বিপিএল শেষ খুলনার।
২০১২ সালে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে বিপিএলে খেলা শুরু মুশফিকের। অধিনায়ক হিসেবে দলকে তুলেছিলেন সেরা চারে। এরপর সিলেট রয়্যালস, বরিশাল বুলস, রাজশাহী কিংস, চিটাগং ভাইকিংসকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কোনোবারই শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তার। গতবার তার নেতৃত্বে খুলনা প্রথমবার উঠেছিল ফাইনালে। আন্দ্রে রাসেলের দলের কাছে হেরে মুশফিকের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
এবারও শিরোপা না পাওয়ায় হতাশ খুলনার অধিনায়ক, ‘শেষ দুই বছর খুলনার হয়ে খেলছি। এজন্য সম্মানিতবোধ করছি। শেষবার ফাইনাল খেলেছি। আমরা রানারআপ হয়েছি। এবারও ইচ্ছা ছিল ফাইনালে যেন যেতে পারি। দূর্ভাগ্যবশত যেতে পারিনি। হার্ড অ্যান্ড সোল ট্রাই করেছি। এটা টুর্নামেন্টের অংশ। ছয় দলের একটি চ্যাম্পিয়ন হবে। বাকিদের পড়তে হবে।’
রোমাঞ্চকর ম্যাচে হেরেছে মুশফিকের দল। আগে ব্যাটিং করে ওয়ালটনের ৪৪ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে চট্টগ্রাম ১৮৯ রানের পুঁজি পায়। ডু অর ডাই ম্যাচে খুলনা দারুণ জবাব দেয়। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আন্দ্রে ফ্লেচার ৫৮ বলে ৮০ করেন। মুশফিক ২৯ বলে করেন ৪৩। ইয়াসির ২৪ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৭ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি খুলনা।
তবে খুলনা শুরু থেকে ম্যাচেই ছিল। ১০ ওভারে ৪ উইকেটে চট্টগ্রামের রান ছিল মাত্র ৬৬। সেখান থেকে শেষ ১০ ওভারে ১২৩ রান তোলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম। এমন হতশ্রী বোলিংয়ে বেশ হতাশ খুলনার অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন মুশফিক, ‘আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। আমাদের মূল ধস হয়েছে বোলিংয়ে। যে কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ ১০ ওভারে ১৩০ রানের মতো (আসলে ১২৩) নেওয়া প্রত্যাশিত নয়। উইকেট যতই ভালো হোক। আমাদের বোলাররা ১০ শতাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।‘
‘ভালোর একটা সীমা আছে, খারাপের একটা সীমা থাকে। ওই সীমাটা যদি আমরা কমিয়ে আনতে পারতাম, তাহলে হয়তো ১৭০, এমনকি ১৮০ রানও ভিন্ন ব্যাপার হতো। আপনারা সেটাই দেখলেন, আমরা ৫-৬ রানে হেরে গেলাম। এমনি ১-২ রানে অনেক ম্যাচ হেরে যায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, আর সেখানে তো…আমি মনে করি, ওই জায়গাতে খেলাটা ওরা সহজেই বের নিয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু বোলারদের হয়তো দায়িত্বটা আমি সেভাবে দিতে পারিনি এবং তারাও সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’
‘শেষ ১০ ওভারে ওতো রান দেওয়া টার্নিং পয়েন্ট। আপনার যদি ইয়র্কার পরিকল্পনা থাকে। সেটা যদি লো ফুলটস বা হাফভলি হয়ে যায় তাহলে সেট ব্যাটসম্যান আপনাকে বাউন্ডারি মারবেই। আবার যদি স্লোয়ারের পরিকল্পনা থাকে। সেটা যদি হাফভলি হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবে সেট ব্যাটসম্যান মারবে। আমাদের বোলাররা সেই কাজটা করতে পারেনি। আমি মনে করি শুধু এই ম্যাচে নয়, এর আগের ম্যাচে বা তার আগেও আমাদের বোলাররা যে খুব বেশি ভালো করেছে বলা যাবে না। একটু খারাপ লেগেছে যে, ম্যাচ জিততে গেলে তিন বিভাগে ভালো করতে হয়। একটা সুযোগ ছিল সেমিফাইনাল খেলার সেটা হয়নি।’
সূত্র : রাইজিংবিডি
এন এইচ, ১৫ ফেব্রুয়ারি









