চাকরির প্রলোভনে জিম্মি করে যৌন ব্যবসা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮

চট্টগ্রাম, ১৯ মে– চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই তরুণীকে বাসায় আটকে রেখে যৌন ব্যবসা করানোর অভিযোগে চট্টগ্রামে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দুই তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়।
সোমবার রাতে ডবলমুরিং থানাধীন মোগলটুলীর কাটা বটগাছ মোড়ের জাফর সওদাগরের বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় আক্তারের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৮ মে) বিষয়টি জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৃত রাব্বান মিয়ার ছেলে মো. আক্তার হোসেন (৬৩), চট্টগ্রাম জেলার মোগলটুলীর কাটা বটগাছ এলাকার আবু আহাম্মদের ছেলে আবু হোসেন টিপু (২৯), নোয়াখালী জেলার মো. আলমগীরের ছেলে মো. মজিবুল বশর রাজু (২০), চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার মগপুকুর পাড় এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন আলম (৩৫), চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলী এলাকার মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন জুয়েল (৩১), চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার মোগলটুলী এলাকার মো. ইসাখানের ছেলে মো. বেলাল খান (৩১), মো. আকাশ (২৫), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার কাজল মিয়ার ছেলে শুক্কুর (২২)। এদের মধ্যে মো. আকাশের বাড়ির ঠিকানা জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, গার্মেন্টেসে চাকরি হারানো ১৮ বছরের এক তরুণীকে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত ১১ মে আক্তারের কাছে নিয়ে যায় আকাশ নামের এক ব্যক্তি। এরপর ওই তরুণী জানতে পারে তাকে আক্তারের কাছে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে আকাশ। এরপর ওই তরুণীকে আটকে রেখে জোর করে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে তারা।
একই বাসায় ১৯ বছরের আরেক তরুণীকেও আটকে রেখে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল। যাকে গত ১৪ এপ্রিল আক্তারের কাছে বিক্রি করে শুক্কুর নামের একজন। ওই বাসায় গত ১৫ মে রাতে গিয়ে তিনটি মোবাইল খুঁইয়ে বসেন টিপু সাহা নামের একজন সুইপার।
এরপর মোবাইল ফিরে পেতে সোমবার রাতে বন্ধুদের নিয়ে ওই বাসায় যায় টিপু। পাশাপাশি তিনি ঘটনাটি পুলিশকেও জানান। এরপর পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার শিকার দুই তরুণীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার টিপুর কাছ থেকে একটি এবং জুয়েলের কাছ থেকে একটিসহ দুটি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোবাইল দুটি টিপু সাহার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে যৌনবৃত্তির বিষয়টি জানতে পারি। এ ঘটনায় টিপু সাহা ও ভুক্তভোগী ১৮ বছরের তরুণী বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এন / ১৯ মে









