জাতীয়

ইনুর মিথ্যাচার ন্যক্কারজনক: হেফাজত

চট্টগ্রাম, ০৭ এপ্রিল – জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বুধবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী হেফাজত আমীর বাবুনগরী ও যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের দাবির নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এ দেশের তাওহিদী জনতার রাহবার ও আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি এদেশের হাজার হাজার আলেমের ওস্তাদ। তাকে হয়রানি কিংবা তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে এদেশের তাওহিদী জনতা তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

আরও পড়ুন : সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হেফাজত কোনো তাণ্ডব চালায়নি; বরং ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে গুপ্ত হামলার তাণ্ডব চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে এখন হেফাজতকে দোষারোপ করা হচ্ছে। হাসানুল হক ইনুসহ সরকারদলীয় ব্যক্তিরা তদন্ত ছাড়াই হেফাজতের নামে অনবরত মিথ্যাচারপূর্বক হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কিন্তু আমাদের উসকানি দিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর পরিণতি সরকারের জন্য ভালো হবে না।

তিনি আরো বলেন, হাসানুল হক ইনু পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া ২১টি প্রাণের জন্য একটুও দুঃখপ্রকাশ করেননি! পুলিশ কর্তৃক সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিচার চাননি! শান্তিপূর্ণ হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিলে কারা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতিকে সহিংস করে তুলেছিল?

আজিজুল হক বলেন, এতগুলো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, নিশ্চয়ই সেখানকার সিসি ক্যামেরাগুলোতে হামলার ভিডিও ফুটেজ থাকার কথা। সেগুলো তদন্ত করলেই প্রকৃত তাণ্ডবকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব। কিন্তু কেন হামলাকালীন কোনো ভিডিও ফুটেজ বা ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না এখনো? কোনো তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়াই আগেভাগে হেফাজতে ইসলামকে দায়ী করে অনবরত প্রোপাগাণ্ডা চালানো থেকেই বোঝা যায়, স্যাবোটাজ হিসেবে এসব তাণ্ডব ঘটিয়ে হেফাজতকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হাসানুল হক ইনু জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি। অথচ তিনি দলীয় আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে দীর্ঘসময় একটি বুর্জোয়া পুঁজিবাদী ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে আমরা জেনেছি, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি অঢেল অর্থসম্পদ বানিয়েছেন। এটাই কী সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নমুনা! এছাড়া বঙ্গবন্ধু-হত্যার পর ট্যাংকের ওপর শার্ট খুলে যিনি নেচে-নেচে উল্লাস করেছিলেন, আজকে তার মুখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বেমানান।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ০৭ এপ্রিল

Back to top button